চট্টগ্রাম চেম্বারে ভোট ঘিরে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য, স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা
দীর্ঘ অপেক্ষা, আইনি জটিলতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের পর অবশেষে ভোটের পথে হাঁটছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ব্যবসায়ী সংগঠন দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। আগামী ২৩ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সংগঠনটির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী অঙ্গনে ফিরে এসেছে উৎসবমুখর পরিবেশ ও স্বস্তি।
চট্টগ্রাম চেম্বারে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংগঠনটিতে কার্যত একক প্রভাব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ চলে আসছিল। গত প্রায় ২০ মাস ধরে চেম্বার পরিচালিত হচ্ছে প্রশাসকের মাধ্যমে। একাধিকবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও মামলা, আপিল ও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে পাঁচ দফায় ভোট পিছিয়ে যায়। ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে হতাশা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল।
নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পর ব্যবসায়ী মহলে দেখা দিয়েছে স্বস্তি। বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, এই নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তনের সুযোগ নয়, বরং চেম্বারে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের এক নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চেম্বারের কার্যক্রম থেকে দূরে সরে ছিলেন। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসলে ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা ও দাবি তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বার্থ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতারাও নির্বাচনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের ভাষ্য, চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্য, বন্দরকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও শিল্পখাতের স্বার্থ রক্ষায় একটি কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল চেম্বার প্রয়োজন।
এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুটি প্যানেলের মধ্যে। এর একটি হলো এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ‘ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম’। আমিরুল হক দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিভিন্ন শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
অন্যদিকে, চেম্বারের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বে নির্বাচন করছে ‘সমমনা পরিষদ’। তিনি অতীতে চেম্বারের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে অর্ডিনারি ও অ্যাসোসিয়েট ক্যাটাগরির সদস্যরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ১৮ জন পরিচালক নির্বাচন করবেন। চেম্বারে বর্তমানে মোট ভোটার ৬ হাজার ৭৮০ জন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য ৪ হাজার ১ জন এবং সহযোগী সদস্য ২ হাজার ৭৬৪ জন।
এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে সমঝোতার ভিত্তিতে আরও ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরে এই ২৪ জন পরিচালক নিজেদের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে চেম্বারের সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচন করবেন।
ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশের আশা, দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এবার একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে। প্রায় এক যুগ পর নির্বাচনী উত্তাপ ঘিরে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মহলে এখন নতুন প্রত্যাশা- নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে চেম্বার আবারও ব্যবসায়ীদের আস্থার জায়গায় পরিণত হবে।
এদিকে, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ বলে মনে করছে বিজিএমইএ। এক বিবৃতিতে বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মাধ্যমে ব্যবসায়ী সমাজের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ও দূরদর্শী নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। যাদের সঙ্গে নিয়ে বিজিএমইএ চট্টগ্রামের শিল্প-বাণিজ্যের উন্নয়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
এছাড়া এই নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ চৌধুরীসহ বহু ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের প্যানেল লিডার আমিরুল হক বলেন, চট্টগ্রাম চেম্বার দীর্ঘদিন নেতৃত্ব শূন্য ছিল। ব্যবসায়ীদের একটি সংগঠন এভাবে থাকা ঠিক নয়। ব্যবসায়ীদের কথা ব্যবসায়ীদেরকেই বলতে হবে। আশা করি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।