পেপার প্যাকেজিং পণ্যকে ২০২৬ সালের ‘বর্ষ পণ্য’ ঘোষণা করেছে সরকার। রপ্তানি বহুমুখীকরণ, শিল্প খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন নীতিনির্ধারক ও উদ্যোক্তারা।
গতকাল শনিবার রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দুই দিন পিছিয়ে শুরু হওয়া এবারের বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সম্ভাবনা ও অবদানের ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ও বিশেষ অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঘোষণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রপ্তানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ড জোরদার করতে প্রতিবছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষ পণ্য’ ঘোষণা করা হয়। ‘এবার পেপার প্যাকেজিং পণ্যকে ২০২৬ সালের ‘বর্ষ পণ্য’ হিসেবে ঘোষণা করছি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, পেপার প্যাকেজিং শিল্প একসময় সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর ছিল। তবে গত এক দশকে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সরকারের নীতিগত সহায়তায় এ খাত দ্রুত বিকশিত হয়েছে। বর্তমানে তৈরি পোশাক, ওষুধ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পেপার প্যাকেজিং পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বিশ্ববাজারে পরিবেশবান্ধব ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্যাকেজিংয়ের চাহিদা বাড়ায় এ খাতের সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ‘বর্ষ পণ্য’ ঘোষণার ফলে নতুন বিনিয়োগ আসবে, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএপিএমইএ)।









