বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের উদ্যোগে শনিবার (২ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
‘দেশ ও সমাজ বিনির্মাণে পেশাজীবীদের ভাবনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন এ্যাড. মো. খালিদ হোসেন।
প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা মো. জাফর মাহমুদ, শামসুল আলম, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী নাসির উদ্দিন, সহ-সভাপতি ডা. এমদাদুল ইসলাম, এ্যাড. ড. মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিজওয়ান রূপ দীনেশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক কাউছার শেখ, অর্থ সম্পাদক সাহেদ ইবনে বারী, গণমাধ্যম ও প্রকাশনা সম্পাদক সাংবাদিক জি.এম. রোকনুজ্জামানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সভাপতি এ্যাড. মো: খালিদ হোসেন বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যে সকল সহযোদ্ধারা প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরকে স্বাগত জানাই। এবং সকল শ্রেণীর পেশাজীবী ও অতিথিদেরকে অভিনন্দন জানাই।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গণঅধিকার পরিষদের ভ্রার্তৃপ্রতীম সহযোগী সংগঠন। তিনি বলেন, গণধিকার পরিষদ হঠাৎ করে গড়ে ওঠেনি- রাজপথে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে উঠে এসেছে, প্রথমে ছাত্র অধিকার পরিষদ, এরপর যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ তারপরে পেশাজীবী অধিকার পরিষদ গঠিত হয়। পর্যায়ক্রমে প্রবাসী ও আইনজীবী অধিকার পরিষদ গঠিত হয়। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে যাত্রা শুরু করে ২০২৪ জুলাই অভ্যুত্থানে গণঅধিকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। অথচ বর্তমানে তথাকথিত কিংস পার্টি জুলাই অভ্যুত্থানের পরিপূর্ণ ক্রেডিট নিতে চায়। পেশাজীবী অধিকার পরিষদ এমন একটি সংগঠন যারা আওয়ামী লীগের আমলে ডক্টর ইউনুস কে হয়রানির বিরুদ্ধে আলোচনা সভা করে প্রতিবাদ করে। অথচ ডক্টর ইউনুস সাহেব প্রধান উপদেষ্টা থাকাকালীন গণঅধিকার পরিষদ একাধিকবার সাক্ষাতের চিঠি দিয়েও তার সাক্ষাৎ পায়নি। বরং তথাকথিত ছাত্র সংগঠনকে প্রাধান্য দিয়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন জায়গায় পরিচিতি করিয়েছে ফ্রন্ট লাইনে নিতে।
নুরুল হক নুর আরও বলেন, অনেকেই আমাকে নিয়ে সমালোচনা করে। কিন্তু আমি কেনো কথা বলি না। ৮-১০ বছর মার খেয়েছি, কখনো হাত ভেঙেছে, কখনো পা ভেঙেছে, কোমর পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে, শেষে নাকটাও বাদ রাখেনি। আমরা সবকিছু হারালাম অথচ ক্রেডিট দিচ্ছে অন্যদের। এখন বিএনপির সাথে সরকারে আছি। সরকারের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে।
পেশাজীবী অধিকার পরিষদের উপদেষ্টা ও সদ্য সাবেক সভাপতি জাফর মাহমুদ বলেন, নুরুল হক নূর ভাই না থাকার কারণে মাঠে কোন আন্দোলন নাই এটা সবাই বলে তিনি কি সবসময়ই কথা বলবেন এখন আপনারা কিছু করেন।
অপর উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, আন্দোলন করলো গণঅধিকার পরিষদ অথচ সুবিধা নিচ্ছে অন্যরা। বর্তমানে সংসদে আলোচনা হয় ৭১ এবং ২০২৪ নিয়ে অথচ বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ কোটি টাকা পাচারের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয় না।
যুব অধিকার পরিষদের সদ্য সাবেক সভাপতি মনজুর মোরশেদ বলেন, ২০১৮ কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।
শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আব্দুর রহমান বলেন, আমরা সবাই কোন না কোন পেশায় নিয়োজিত সবাই আমরা পেশাজীবী। কিন্তু দেশের সেলফ এবং স্টিয়ারিং পেশাজীবীদের হাতে। সুতরাং পাচার হওয়া টাকা পেশাজীবীদেরকেই উদ্ধার করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি চিরাচরিত সিলসালাতে চলে। যেমনগ যে দল সরকারে যায় তাদের সাথে অন্য কোন দল জোটে সরকারে গেলে সরকারের অপকর্মের দায় তাদেরও নিতে হয় তাদের কোন ভুল না থাকা স্বত্তেও। আমরা সরকারের যেমন ভাল কাজের আলোচনা করবো তেমনি খারাপ কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করব। আমরা গণঅভ্যুত্থানের সহযোগি দল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণঅধিকার পরিষদের সরাসরি ভূমিকা ছিল। জুলাই সনদ সকল দলমত নির্বিশেষে বাস্তবায়ন করা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে আশ্বাস করেছেন জুলাই সনদ নিয় সেটার আমরা বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
অ্যাড. ড. মোহা: শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা যদি কোন ফরম পূরণ করতে যাই সেখানে আমাদের পেশা যুক্ত করতে হয় তাই দেশ ও জাতির উন্নয়নে পেশাজীবীদের ভূমিকা অপরিসীম।
গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য জনাব আবু হানিফ বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকার, দেশ ও জাতিকে উপকৃত করতে হবে।
পেশাজীবী অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক কাউছার শেখ বলেন, একজন বাবার পাঁচটি সন্তান থাকতে পারে পাঁচজন সন্তানের চরিত্র পাঁচ রকম হবে তবে যে অন্যায় করবে তার দায়ভার তাকেই নিতে হবে। এ জন্য তো দায়-দায়িত্ব সবাই নিবে না। তথাপি গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর যদি তার মন্ত্রণালয়ে কোন নেতিবাচক কাজ না করে তবে সরকারের অন্যদের দায়ভার তিনি নিবেনা। পাশাপাশি সরকারের নেতিবাচক কাজের গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। এবং ইতিবাচক কাজের আলোচনা করতে হবে।
স্বাস্থ্য সম্পাদক ডা. তোফায়েল আহমেদ দিহান বলেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন। এটি অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠনের মতো নয় এটি বাংলাদেশের পেশাজীবীদের অধিকার আদায়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে।
মানবাধিকার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মহসিন বলেন, বাংলাদেশের পেশাজীবীদের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে। এটিই হবে পেশাজীবীদের জন্য বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদ এর বড় কাজ।
ডক্টর এমদাদুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের উৎখাতে ডাক্তারদের ভূমিকা ছিল। ডাক্তার এবং রোগীর সম্পর্ক হবে বন্ধুত্বপূর্ণ। ডাক্তাররা সুচিকিৎসা দিলে রোগীরা বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না।
এছাড়াও বক্তব্য প্রদান করেন যুব অধিকার পরিষদের দপ্তর সম্পাদক কাওছার আলী, প্রবাসী অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী নাসির উদ্দিন, বিসিএস কনফিডেন্স এর শিক্ষক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল হাই , তিনি বলেন পেশাজীবীরা যদি সৎ হয় তবে জাতি এমনিতেই এগিয়ে যাবে।
মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, দেশে যারা বেকার আছে তাদের কর্ম-পেশা আগে নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাগত বক্তব্য দেন তরিকুল ইসলাম ও সেলিনা প্রমুখ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ পেশাজীবী অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার জিল্লুর রহমান সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফ মাহমুদ।



