দেশের ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্য সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।
আজ সোমবার বেলা ১টায় চট্টগ্রাম চেম্বার কার্যালয়ে দীর্ঘ একযুগ পর সরাসরি ভোটে নবনির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদের কাছে চেম্বারের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. মোতাহের হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
দ্বিবার্ষিক নির্বাচনে বিজয়ী ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের নেতাদের হাতে দায়িত্ব তুলে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজে নতুন নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং বিজিএমইএ’র পরিচালক ও এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম।
পরিচালনা পর্ষদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ আমিরুল হক, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আমজাদ হোসাইন চৌধুরী ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন।
এবারের নির্বাচনে মোট ২৪টি পরিচালক পদের মধ্যে ১৮টি পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বাকি ছয়জন পরিচালক এর আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। প্রায় ১২ বছর পর অনুষ্ঠিত এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
নির্বাচনে অর্ডিনারি গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আমজাদ হোসাইন চৌধুরী, মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন চৌধুরী, কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আমান উল্লা আল ছগির, আবু হায়দার চৌধুরী, মোহাম্মদ শফিউল আলম, এএসএম ইসমাইল খান, মো. গোলাম সরওয়ার, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও শহিদুল আলম।
অ্যাসোসিয়েট গ্রুপে নির্বাচিত হয়েছেন- মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ, মোহাম্মদ মশিউল আলম স্বপন, সরোয়ার আলম খান, মো. জাহিদুল হাসান, মো. নুরুল ইসলাম এবং মো. সেলিম নুর।
এছাড়া ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে মোহাম্মদ আমিরুল হক (প্যানেল লিডার), এসএম সাইফুল আলম ও মোহাম্মদ আকতার পারভেজ এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন গ্রুপে মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মোহাম্মদ মনির উদ্দিন ও আফসার হাসান চৌধুরী বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের ইতিহাসে সর্বশেষ ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সমঝোতার ভিত্তিতে এবং বিনা ভোটে পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়ে আসছিল। ফলে এবারের নির্বাচনকে ব্যবসায়ী সমাজে গণতান্ত্রিক ধারার প্রত্যাবর্তন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত নেতারা ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, শিল্পায়ন সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



